সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়ক
২৫টি বিপজ্জনক বাঁকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
- আপলোড সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:২৩:১২ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০১-২০২৬ ০৯:২৩:১২ পূর্বাহ্ন
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া :
সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে বিশ্বম্ভরপুর হয়ে তাহিরপুর উপজেলা পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার সড়কজুড়ে রয়েছে অন্তত ২৫টির বেশি বিপজ্জনক বাঁক। এসব বাঁকই প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক মেরামত করা হলেও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করা কিংবা দুর্ঘটনা কমাতে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
সরজমিনে দেখা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার চালবন হয়ে চিনাকান্দি-মাছিমপুর সড়ক, পলাশবাজার থেকে লাউড়েরগড়, কারেন্টের বাজার থেকে বিন্নাকুলী সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে একের পর এক বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এসব বাঁকে প্রায় প্রতিদিনই যানবাহন দুর্ঘটনায় পড়ছে, সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট, দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রী ও চালকরা।
এই সড়কটি ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি যানবাহনের চাপ বহন করছে। তার ওপর একের পর এক নব্বই ডিগ্রি বাঁক, ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের সেতু ও যত্রতত্র নির্মিত স্পিড ব্রেকার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
স্থানীয়রা জানান, সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর সড়কে অন্তত ২৫টি বিপজ্জনক বাঁক রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাঘমারা এলাকায় মাত্র ১০০ গজের মধ্যেই রয়েছে চারটি বিপজ্জনক বাঁক। শক্তিয়ারখলা বাজার পার হয়ে রয়েছে আরও চারটি, বালিজুড়ী ইউনিয়নের মেম্বার বাড়ির সামনে তিনটি এবং বাজার এলাকায় একটি বাঁক। এছাড়া কারেন্টের বাজার, পলাশ বাজারগামী সড়কে স্টিল ব্রিজের মুখে ও চালবন পয়েন্টে বাঁকগুলো সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব বাঁকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তের রাস্তা দেখা যায় না। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন বুঝতে না পেরে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এই সড়কে অন্তত চারটি ঝুঁকিপূর্ণ স্টিলের সেতুও রয়েছে, যেগুলো দিয়ে ভারী যান চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।
শক্তিয়ারখলা এলাকার বাসিন্দা জহির মিয়া বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করা না হলে দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। আমরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করছি।
সিএনজি চালক জামিল মিয়া জানান, তাহিরপুর উপজেলার বীরনগর এলাকার ব্রিজ থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকের শুরু। এরপর বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ভেতর দিয়ে আব্দুল জহুর সেতু পর্যন্ত পুরো সড়কেই চালকদের বাড়তি সতর্কতায় চলতে হয়।
বাঘমারা এলাকার বাসিন্দা শফিক আহমেদ বলেন, সড়ক মেরামত করা হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশস্ত করা হয়নি। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো আগের মতোই রেখে দেওয়া হয়েছে।
শাহ আলম, সুহেল আহমদসহ অনেকে বলেন, সড়ক প্রশস্তকরণের সময়ই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সোজা করা যেত। কিন্তু তা না করে দায়সারা কাজ শেষ করায় সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে পড়েছে।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ